সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল প্রবাসীদের জন্য সম্প্রতি স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিত্তিতে রেসিডেন্ট পারমিট দেয়ার বিধান রেখে একটি রেসিডেন্ট পারমিট আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। সৌদি গেজেট পত্রিকা বলছে, এর আওতায় পার্মানেন্ট বা টেম্পোরারি রেসিডেন্সি ভিসা অর্থাৎ স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিত্তিতে বসবাসের করার ভিসা যারা পাবেন, তারা বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করবেন।
‘প্রিভিলেজড ইকামা’ নামে এই প্রকল্পটি সাধারণভাবে পরিচিত হয়ে উঠছে সৌদি গ্রিন কার্ড নামে। তিন বছর আগে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান প্রথমবারের মতো সৌদি গ্রিন কার্ডের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আইনটি কার্যকর হলে দেশটির বর্তমান জটিল ও আমলাতান্ত্রিক ইমিগ্রেশন পদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি আরবে এখন প্রবাসীদের এখন সাধারণত স্থানীয় একজন স্পন্সরের প্রয়োজন হয় এবং প্রবাসীরা সেখানে রেসিডেন্ট পারমিট পান না।
যা থাকছে নতুন গ্রিন কার্ড আইনেঃ
১. প্রস্তাবিত আইনের অধীনে কোন প্রবাসী নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে সৌদি আরবে বসবাস করতে, কাজ করতে, ব্যবসা করতে এবং তাদের নিজস্ব সম্পত্তি তৈরি করতে পারবে।
২. বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থানের জন্য একজন স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন হয়। এই কার্ড পেলে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকের আর প্রয়োজন হবে না।
আরব নিউজ সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানিয়েছে এই বিলটি খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সে দেশের মন্ত্রিসভায় যাবে।
গ্রিন কার্ড-এ প্রবাসী বাংলাদেশীদের যা লাভ হবেঃ
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনেক নামকরা বাংলাদেশী অধ্যাপক রয়েছেন। সৌদি আরবের অনেক নামকরা চিকিৎসক ও প্রকৌশলী আছেন যারা বাংলাদেশের নাগরিক। অনেক বাংলাদেশী প্রবাসী এখানে ব্যবসা করে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। নতুন প্রস্তাবিত সিস্টেমটি বিদ্যমান আকামা বা পৃষ্ঠপোষক সিস্টেমের চেয়ে পৃথক, এজন্য নাম প্রিভিলেজড আকামা। এর অর্থ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন প্রবাসী চাইলে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে এবং তাদের কোন স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন হবে না।
সৌদি আরবে এমন অনেক সফল প্রবাসী বাংলাদেশী আছেন যারা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন। যদি গ্রিন কার্ড সিস্টেম চালু করা হয় এবং তারা ইচ্ছা করলে গ্রিন কার্ড নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবেন।