আসন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ সময়ের ১৫ টি পরামর্শঃ
পরীক্ষা কেন্দ্রে যেসব কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে সেটা তোমাদের অ্যাডমিট কার্ডের নিচের দিকে সব লিখা আছে। একটাবার অ্যাডমিট কার্ডে চোখ বুলিয়ে তো দেখো।
১. HSC Admit Card: এইচএসসি এর অ্যাডমিট কার্ড এর মেইন কপি তো নিবেই৷ এর সাথে ফটোকপিটাও নিয়ে যাও। খামাখো এসব নিয়ে ঝামেলা করে নিজের মাথা খারাপ করে পরীক্ষা খারাপ দেওয়ার কোন মানে নাই।
২. HSC Registration Card:
এইচএসসি এর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এর মেইন কপি যাদের ভার্সিটিতে জমা তারা এইচএসসি এর অ্যাডমিট এর মূলকপি+ ফটোকপি আর পারলে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি থাকলে নিয়ে যেও।
অর্থাৎ আমি তোমাদের জায়গায় হলে
🔰এইচএসসি এর অ্যাডমিট কার্ড এর মূলকপি+ ফটোকপি
🔰এইচএসসি এর রেজিস্ট্রেশন এর মূলকপি + ফটোকপি (ভার্সিটিতে ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন এর মূলকপি জমা দেওয়ার কারণে ফটোকপি টাই নিয়ে যেতাম। কাগজপত্র নিয়ে আমি কোনদিন আলাদা ঝামেলায় পড়ার পক্ষে নেই। কাগজপত্র বেশি নিয়ে গেলে তো কেউ আমাকে কিছু বলবেনা। ঝামেলা যেন কাগজে না হয়।
কাগজের ঝামেলার কারণে পরীক্ষা খারাপ হলে কই মুখ দেখাবো।
৩. Mask:
বাসা/মেস থেকে মাস্ক পড়েই বের হবে।
৪. Own Picture:
অ্যাডমিট কার্ডে যেমন ছবি দিছো সেটার মতই যাবার চেষ্টা করিও। তার মানে পিচ্চি কালের মাসুম বাচ্চার ছবি আমরা অনেকেই দেই কিন্তু পরীক্ষার হলরুমে এমনভাবে মেকাপ বা বেশ ধরি যাতে চেনাই যায়না৷ তখন স্যাররা ভাব্বে আমি অন্য জনের বদলি পরীক্ষা দিচ্ছি। তোমার নিজের কারণে এসব ঝামেলা হবে। তাই সবসময় রিসেন্ট পিক বা বর্তমান সময়ের ছবি দিবে এসব অ্যাপ্লাই করার সময়। তোমার ছবি দেখে চান্স হবেনা তবে এমন ছবি দিবেনা যাতে তোমাকে স্যারেরা ছবির মানুষের সাথে বাস্তবে মিল না পায়। আশা করি বুঝেছো।
৫. Accessories:
ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি, মোবাইল বা অসৎ উপায়ে পরীক্ষার সরঞ্জাম নিয়ে যাবেনা। এতো দিনের কষ্টের পরিশ্রম এসব ঝামেলায় যেন নষ্ট না হয়। হিসাব ক্লিয়ার?
৬. Extra Bag:
জিপার ব্যাগে কাগজপত্র নিয়ে গেলে হলরুমে প্রবেশের আগে আশেপাশে রেখে যাবে বা অভিভাবককে জমা দিয়ে যাবে।
৮. Money Management Before Exam:
রিকশায় বা কোন যানবাহনে চড়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় পকেটে খুচরা টাকা নিয়ে বের হবে। ভাড়া আগেই মিটাবে। কোন রকম মানসিক অশান্তি যেন না হয়।
৯. Sound Sleep:
না খেয়ে বা না ঘুমিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার দুঃসাহস করাটা বোকামি। মস্তিষ্কের জন্য গ্লুকোজ দরকার হয়। পরীক্ষায় না খেয়ে গেলে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করতে পারবেনা। তখন এতোদিনের পরিশ্রমের ফলাফল আশানুরূপ নাও আসতে পারে।
১০. Time Management Before Exam:
পরীক্ষার কেন্দ্রে অবশ্যই ৯ঃ৩০ এর আগে প্রবেশ করবে।সময় হাতে নিয়ে বের হবে। পরীক্ষার দিন সকাল বেলা হালকা রিভিশন দিবে মানে মন মানবেনা তাই চোখ বুলাবে। খবরদার এমন কোন তথ্য পড়বে না যা আগে কখনো পড়োনি। খামাখা মস্তিষ্ককে এভাবে ভয় দেখাবেনা। যা পড়ছো এতেই হবে যদি চান্স ভাগ্যে থাকে। পরিশ্রম যথেষ্ট হইছে।বাকিটা আল্লাহ ভরসা।পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের পর পড়াশোনা নিয়ে কোন আলাপ করবেনা। পাশের জনের সাথে পরিচিত হতে পারো তবে অন্যরা অনেক পারে, আমি কিছুই পারিনা এসব ভেবে নিজেকে বোকা বানিওনা। যা পড়ার এতোদিন পড়ছো, এখন উল্টাপাল্টা ভেবে মাথা খারাপ করা মানে নিজের সিট অন্যকে দেওয়া।
১১. Check Your Seat:
তোমার সিট বেঞ্চ বা ডেস্ক টা ভালোভাবে চেক করে নিবে। উচুনিচু বা অসুবিধা হলে স্যারদেরকে জানাবে। বাকিটা তাদেদ দ্বায়িত্ব। যদি সমাধান না হয় তাহলে ম্যানেজ করে নিবে মেন্টালি আর বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখবে।
🔰পরীক্ষার প্রশ্ন পাবার পর করণীয়ঃ
১২. Check Your Questions:
প্রশ্নগুলো চেক করে নাও ১০০ টা আছে কিনা। সিরিয়াল ঠিকঠাক আছে কিনা। যদি এসবে বেশি সময় চলে যায় এমন ভাবো, তাহলে প্রশ্নপত্রের কারণে চান্স না পেলে আফসোস করে লাভ নাই। তোমার পরীক্ষা ৩০-৪০ মিনিটেই শেষ হবে। বিশ্বাস করো বা নাই করো। প্রশ্নপত্রের ধরন দেখেই মোটামুটি বুঝে যাবে তুমি।
১৩. Roll Number & Signature:
পরীক্ষার রোল নাম্বার,সিরিয়াল নাম্বার, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অ্যাডমিটের অনুরূপ স্বাক্ষর করবে। বাংলায় স্বাক্ষর থাকলে বাংলায় করবে। ইংরেজিতে থাকলে ইংরেজিতে। স্বাক্ষর উল্টাপাল্টা করে ঝামেলায় কেন পড়বে -বলোতো? এইচএসসি এর রেজিস্ট্রেশন এর মত করেই আমি সব জায়গায় স্বাক্ষর দেই।তুমি এটা যদি না করে থাকো তাহলে কোন চাপ নাই এখন। যেটা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে দিছো সেটাই পরীক্ষার হলরুমে করবে।
১৪. Serial Mistake:
প্রশ্নপত্রের সিরিয়াল ভুলের কারণে চান্স না হলে কিরকম বাজে লাগবে ভাবো তো?
১০০% পারো এমন প্রশ্ন দাগাতে শুরু করো। ১-১০০পর্যন্ত প্রথম ধাপে দাগিয়ে নাও। তারপর দেখো কতটুকু হলো তোমার অর্জন। এবার প্রশ্নের মানের উপর একটা ধারণা নাও। সেভাবে সেইফ জোনে দাগাতে থাকো।১০০ টাই দাগাতে হবে এটা চিন্তা বাদ দাও। পরীক্ষার হল থেকে ১০০ টা দাগিয়ে ভাব নিয়ে যতই বাড়ির দিকে রওনা হবে ততই ভুল বের হবে। লাস্টে ঝুড়িতে কত মার্ক থাকে সেটাই দেখবে সবাই। অনেক সময় ৫৭ তেই চান্স হয় আবার অনেক সময় ৬৭ তেও হয়ন। তবে সেইফ জোন সারাজীবন ৭০% + থাকবে। প্রশ্নপত্রের ধরনের উপর এটা কম বেশি করবে। গতবার ডেন্টালে ৮৪.৭৫ কাটমার্ক ছিলো। কিন্তু এর আগে এতো বেশি ছিল না। এসব ভেরি করে। এটা ভাবা আপাতত বাদ।
১৫. Prayer:
পরীক্ষার কেন্দ্রে বসার আগেই দু রাকাত নামাজ পড়ে সবার জন্য দোয়া করবে তাহলে আল্লাহ তোমার নিজের ব্যাপারে আরো দয়াবান হবেন। মা - বাবার কাছে আজকে আবারো দোয়া চেয়ে নিবে। বাবা-মায়ের মুখের কথা সবচেয়ে কাজে লাগে আমাদের জন্য।
