গুগলে চাকরি পেলেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সাফল্যের চাবিকাঠি কী?

হাইলাইটস

  • ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাধারণ স্নাতক পাস করেই কাজ পাওয়া যায় গুগলে।
  • সেটাই করে দেখালেন সিলেটের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুবক।
  • মাত্র তিন বছর আগে স্নাতক শেষ করেন তিনি।
  • ‘গুগল’-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরি পাচ্ছেন বাংলাদেশের সিলেটের বাসিন্দা নাফিউল আদনান চৌধুরী।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাধারণ স্নাতক পাস করেই কাজ পাওয়া যায় গুগলে। সেটাই করে দেখালেন সিলেটের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুবক। মাত্র তিন বছর আগে স্নাতক পাস করেন তিনি। ‘গুগল’-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরি পাচ্ছেন বাংলাদেশের সিলেটের বাসিন্দা নাফিউল আদনান চৌধুরী। সিলেটের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক তিনি। তিনি কাজ করবেন গুগলের আয়ারল্যান্ড (ডাবলিন) অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার) হিসাবে। তবে এখনই এই কাজে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। সেখানে তিনি কাজে যোগ দেবেন চলতি বছরের জুন বা জুলাই মাসে বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি যে সেখানে কাজ পেয়ে গিয়েছেন সেটা নিশ্চিত করেছে গুগলের রিক্রুটমেন্ট বিভাগ। আগেই বাংলাদেশ থেকে একাধিক ব্যক্তি চাকরি পেয়েছেন গুগলে। এর আগেই বাংলাদেশের আরেক স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (AIUB) এর প্রাক্তন ছাত্র " জাহিদ সাবুর" এখন গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। 

কিছু মাস আগেই নাফিউল আদনান কে ইন্টারভিউ-র জন্য ডাকে গুগল। এবারই তিনি প্রথম সেখানে কাজের জন্য আবেদন করেন। নাফিউল আদনান চৌধুরী বলেন, ‘গুগলে প্রথম চেষ্টায় অফার পেয়েছি। এই জন্য আমি খুবই ‘ব্লেসড’। আমার পরিবার, সবার অনুপ্রেরণায় এই কাজ পেয়েছি। সেই সঙ্গেই আমি মনে করি যে ‘আল্লাহর রহমত’ ছাড়া এটা সম্ভব হত না।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “আমি যে এত দূরে যেতে পেরেছি সেটা দেখে আমার এলাকার, আমার দেশের অনেকেই উদবুদ্ধ হয়েছেন। এটাও দেখে ভালো লাগছে। ”

সেই সঙ্গে সেরা জায়গায় পৌঁছতে হলে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে? তাঁর মতে, “ গন্তব্যে পৌঁছাতে একবার দুবার পিছিয়ে পড়লেও আবার উঠে দাঁড়ানো উচিত। একবার বা দুবার না পারলে হাল ছেড়ে না দিয়ে বারে বারে চেষ্টা করা উচিত। লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তাহলে সাফল্য ধরা দেবেই।”

তিনি আরো বলেন, আমিও প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে মনে করেছিলাম আমি পিছিয়ে পড়েছি। কিন্তু আমি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার থেকে সর্বোচ্ছ চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে থাকি এবং আলহামদুলিল্লাহ সেটার ফলাফল আমি পেয়েছি। সুতরাং, গন্তব্য পৌছানের আগে এক-দুই বার পিছিয়ে পড়লে, হাল না ছেড়ে লক্ষ স্থির রেখে পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে তাহলে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।


নাফিউল আদনান চৌধুরীর বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মোতিয়ারগাঁওয়ে। তিনি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের স্নাতক। ২০১৯ সালে স্নাতক হওয়ার করে কাজ করছিলেন ইনোসিস সলিউশন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। ওই প্রতিষ্ঠান আমেরিকা এবং কানাডার বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে। সেখানেও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারি হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। নাফিউল আদনান চৌধুরীর এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর শিক্ষকরাও। তাঁরা জানান নাফিউল অত্যন্ত মেধাবী । তিনি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে বিভিন্ন দলীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কৃতিত্ব দেখান। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি দুহাজারের বেশি প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান করেছেন। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংও শিখিয়েছেন নিয়মিত।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেনরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন যে আদনান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিকে গর্বিত করেছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post